Advertisement

সুদানের শরণার্থী শিবিরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন শিক্ষক সাহরা

সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত এল-জেনেিনা শহর থেকে প্রাণ বাঁচাতে চাদে আশ্রয় নেওয়া সাহরা এখন এক উদ্বাস্তু শিবিরে শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ মানুষের একজন এই শিক্ষক। চাদের পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া হাজারো শিশুর জন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায়, ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল’ ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় গড়ে তোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ১ হাজার ৫৯ জন শিক্ষার্থী ও ৩০ জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চাদের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থাও গভীর সংকটে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখের বেশি শিশু অক্ষরজ্ঞানহীন এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষকই মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়াশোনা করেননি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুদানি উদ্বাস্তুদের আগমনে চাদের সীমিত শিক্ষা অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে। সাহরা জানান, নিরক্ষরতা একটি বড় হুমকি এবং এই শিশুদের সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচাতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় সামলাতে সকাল ও বিকালের শিফটে গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোলসহ আরবি ও ফরাসি ভাষায় পাঠদান করা হচ্ছে। তবে বিদেশের মাটিতে পাঠদান করতে গিয়ে ভাষাগত পার্থক্য ও ভিন্ন কারিকুলামের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাদের এই সংকটময় সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাব অত্যন্ত প্রকট। ২০২৬ সালের সুদানি শরণার্থী পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৭ শতাংশ পাওয়া গেছে, যার ফলে ৮৩ শতাংশ ঘাটতি রয়ে গেছে।

শরণার্থী অভিভাবকদের কাছে এই বিদ্যালয় কেবল শিক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং সন্তানদের নিরাপত্তার দুর্গও বটে। অভিভাবক শারফাদিন জানান, সংঘর্ষের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও চাদের এই আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুরা অন্তত অপরাধী চক্রের হাত থেকে নিরাপদ থাকছে। তবে এখনো শত শত অনাথ ও অভিভাবকহীন শিশু শিক্ষার সুযোগের বাইরে রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। অধিকাংশ পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেয়ে জ্বালানি সংগ্রহ বা মজুরি কাজে লাগানোকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সাহরার মতো শিক্ষকরা মনে করেন, উদ্বাস্তুরা কেবল সহায়তাপ্রত্যাশী নয়, বরং তারা দক্ষ ও স্বপ্নদর্শী এক জনগোষ্ঠী। প্রতিকূলতার মাঝেও সাহরা ও তার সহকর্মীরা শিশুদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের জরুরি সাড়া প্রদান ব্যবস্থাপক কেফা মায়াঞ্জ বলেন, শিক্ষাকে শিশুনীতির সাথে একীভূত করে আমরা এক নতুন ঐক্যের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অভাব ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সাহরার বিদ্যালয়টি এখন বাস্তুচ্যুত শিশুদের নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস যোগাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%