দারফুরে সুদান সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে কোনঠাসা আরএসএফ শীর্ষ কমান্ডার নিহত

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর প্রদেশে সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বীর সালিবা অঞ্চলে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সরকারি ও মিত্র বাহিনী আরএসএফের বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। পশ্চিম দারফুরের এল-জেনেিনা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই এলাকাটি আরএসএফের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী চাদ সীমান্তের মরুপথ ও যাতায়াতের পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরএসএফের রসদ সরবরাহের লাইনে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম দারফুরের গভর্নর জেনারেল বাহার আল-দিন আদম কারামা জানিয়েছেন, বীর সালিবা অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জেবেল মুন ও কুলবাসের মতো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোকে প্রাদেশিক রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত করে।
দারফুরের আঞ্চলিক গভর্নর মিনি আরকো মিন্নাউই জানিয়েছেন, লড়াইয়ে আরএসএফের অন্যতম প্রধান ফিল্ড কমান্ডার মেজর জেনারেল মাহদি আদম নিহত হয়েছেন, যিনি ‘জেবেল মুন’ নামে পরিচিত ছিলেন। যদিও আরএসএফ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে এটি তাদের নেতৃত্বের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। সরকারি বাহিনীর মিত্র ‘জয়েন্ট ফোর্স’ এই লড়াইয়ে আরএসএফের কৌশলগত ঘেরাও পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
জয়েন্ট ফোর্সের মুখপাত্র মেজর মুতাওয়াক্কিল আলি ওয়াকিল আবু-জা জানিয়েছেন, অভিযানে সরকারি বাহিনী আরএসএফের ৩৮টি যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং ২৭টি যান জব্দ করেছে। এই লড়াইয়ে আরএসএফের ওই সেক্টর কমান্ডারও নিহত হয়েছেন এবং বিপর্যস্ত যোদ্ধারা রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছে। বিমান হামলার মাধ্যমে চাদ সীমান্তের কাছে আরএসএফের প্রধান সরবরাহ পথগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের পুনর্গঠনের চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
উত্তর করদোফান প্রদেশেও আরএসএফের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ওমদুরম্যান ও এল-ওবেইদ সংযোগকারী কৌশলগত পথটি হাতছাড়া হওয়ার পর আরএসএফ এখন ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা তাদের সরাসরি যুদ্ধে অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। সুদানের সামরিক বাহিনীর দাবি, জাবরা আল-শেখ অক্ষ বরাবর অভিযান চালানোর সময় বেশ কিছু ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাতের জেরে সিরবা অঞ্চলের ১১টি গ্রাম থেকে প্রায় ৬ হাজার ৬৫০ জন বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে এই লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
