AdvertisementAdvertisement

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ বাতিল করল মন্ত্রিসভা

ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে বিতর্কিত ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার বিতর্কিত সুযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হতে যাচ্ছে।

আলোচিত ১৮(ক) ধারায় ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ ও দায় গ্রহণের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও অংশীজনদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিগত সরকারের আমলে অনিয়মে জর্জরিত পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হতে যাওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ, যার মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত ছিল না। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সরকারের এই ব্যাখ্যাকে অপর্যাপ্ত অভিহিত করে জানিয়েছেন, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফেরানোর চেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনা জরুরি। ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই ধারা বাতিল ইতিবাচক হলেও, খেলাপি ঋণের এই বিশাল পাহাড় ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসও ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, বিতর্কিত মালিকদের ফেরার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ও ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক ছিল। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ধারাটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার পর ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ও তারল্য সংকট নিরসনে সরকার কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

0%
0%
0%
0%