ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক জটিলতায় শাহবাজ শরিফের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতা এবং এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই এমন সিদ্ধান্ত এল। পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো না হলেও, কূটনৈতিক মহলে একে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচ্য ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা নথিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার পর এই সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ড সফর বা এ সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি ইরানের অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে তিনি যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার এই মন্তব্যে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য হলে ওয়াশিংটন একটি বিশাল পুনর্গঠন তহবিল গঠনে সহায়তা করবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-সেভেন সম্মেলনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় আলোচনার বিষয়েও ইরান চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো আলোচনায় তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এদিকে, পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত হওয়ার বিষয়টি আপাতত অস্থায়ী নাকি বৃহত্তর কূটনৈতিক কৌশলের অংশ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানর সক্রিয় ভূমিকা নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%