আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাতের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এক আদেশে কারাবন্দি পাকিস্তানর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে তাদের আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় তাদের সাজার বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার স্বার্থে আদালত এই সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ ডোগার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ আসিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানির সময় ইমরান খানের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সফদার আদালতকে জানান যে, আদিয়ালা কারাগারে বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তার মক্কেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি। এর ফলে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা গ্রহণ এবং ওকালতনামা স্বাক্ষর করা সম্ভব হচ্ছে না।
আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন যে, কারা কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে তাদের প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করছে, যা ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যারিস্টার সালমান আদালতকে জানান, গত ডিসেম্বরের পর থেকে বুশরা বিবির সঙ্গেও তার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি এবং পরবর্তী সকল আবেদনই নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
আদালতের সামনে বিষয়টি তুলে ধরে আইনজীবী আরও বলেন যে, পিটিশনারদের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া আইনি লড়াই এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। এ সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে জানান, সমজাতীয় অন্য মামলায় একই ধরনের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ ডোগার মন্তব্য করেন যে, আইনি পরামর্শদাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়া বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তিনি এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আইনি প্রয়োজনে আইনজীবীদের মক্কেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা পাকিস্তানর সরকারের দায়িত্ব।
এর আগে আদালত একইভাবে হস্তক্ষেপ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে তার আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালত ইসলামাবাদ অ্যাডভোকেট জেনারেলকে সাত দিনের মধ্যে যথাযথ সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ওকালতনামা স্বাক্ষরসহ যাবতীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সাক্ষাতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত মামলার পরবর্তী শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
