কাশিমপুর কারাগারে নারী বন্দি পলায়নের ঘটনায় সাত কারাকর্মী বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

কারা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে ৪০ জন বন্দি ইট বহনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় কারাবন্দি রিম্পা অফিস ভবনের পার্শ্ববর্তী দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। নিয়মানুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপ করার কথা থাকলেও তা না করায় তিনি পালানোর সুযোগ পান। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বন্দি পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাতুল ফরহাদ জানান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বরখাস্ত হওয়া সাত কর্মীর মধ্যে রয়েছেন মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা, রেহেনা এবং কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা রিম্পা ঢাকার ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজা ভোগ করছিলেন। গত ৯ জুলাই তাকে আদালতে থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে, যেখানে পলাতক বন্দি কোনাবাড়ির এক ব্যক্তির ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কারাগারের মতো সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পলায়নের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে নিবিড় অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%