ইরানের বন্দর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান অব্যাহত থাকবে মার্কিন বাহিনীর

ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ও সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এই কমান্ড বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইরানের উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের নৌ-চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা কোনো জাহাজের পথে বাধা সৃষ্টি করছে না। তবে চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন রণতরীগুলো ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকবে। মার্কিন বাহিনীর এই অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় সচল হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বুধবারই মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতিক্রমে বারোটির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর ফলে ওই একদিনেই প্রায় এক কোটি ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়।

যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত এই ভঙ্গুর চুক্তি এখনো বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত অবস্থান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের মাশুল আদায়ের পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সমঝোতাকে সমর্থন জানিয়ে বলছে, যুদ্ধের পর ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সম্ভাব্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সই করা সমঝোতা স্মারকের অন্তর্ভুক্ত।

স্বদেশের সমালোচকদের উদ্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কেবল চুক্তির বিষয়বস্তু নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আপসহীন ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় নিলে এটি আমেরিকার জনগণের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অর্জন। ওয়াশিংটন মনে করছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রশমিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%