ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ১৮৮ জনের মৃত্যু, জিডিপির ৭ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে দেশজুড়ে নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ১ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার ১১১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আবাসন পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির অর্থনীতিবিদ র‍্যাচেল জিম্বার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন। এদিকে, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে জাতিসংঘ জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সুইজারল্যান্ড ১৮ টন ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নিরূপণে ওয়াশিংটন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় রসদ সরবরাহে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তিন কোটি ১৭ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ আগে থেকেই চরম দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছিল। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এদিকে, দেশের প্রধান শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিশ্র তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মোরন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাস লিকেজের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ হলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে শেভরন, শেল ও এনির মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং কর্মীরা নিরাপদ আছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি খনিজ তেলের অবকাঠামোগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেও জনজীবন ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%