ভারতর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অস্থিরতার মধ্যেই আসন্ন একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে সাম্প্রতিক বিভাজন ও ব্যাপক ভাঙনের ফলে সৃষ্ট নতুন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা তৃণমূল জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষের উদ্যোগে রামমোহন লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক কর্মিসভায় দূরভাষের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে দলের একাংশের আলাদা পরিষদীয় ব্লক গঠন এবং ঋতব্রতদের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদের নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার দাবি ঘিরে যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তার প্রভাব সমাবেশ আয়োজনের ওপর পড়বে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল রাজনৈতিক জল্পনা।
তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সভা ও মিছিলের অনুমতি প্রদানে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য আবেদন জানানো হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তবে সব ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, ন্যূনতম পাঁচজন কর্মী থাকলেও ধর্মতলায় নির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
নিজের পরিবারের ওপর অব্যাহত রাজনৈতিক চাপ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অতিসক্রিয়তার কথাও এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়মিত বিভিন্ন সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক কঠিন সময়। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভয় না পেয়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর এই সমাবেশটি তৃণমূলের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও দুটি ভিন্ন শিবিরের অস্তিত্বের এই সময়ে ধর্মতলার সমাবেশে জনসমাগমের হারই নির্ধারণ করে দেবে মমতার শিবিরের সাংগঠনিক শক্তির প্রকৃত চিত্র। তাই এই সমাবেশের মাধ্যমে দল নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।