শরণার্থীদের মানবিক মর্যাদার সুরক্ষায় বিশ্বনেতাদের প্রতি পোপ লিওয়ের কঠোর আহ্বান

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অবস্থানরত পোপ লিও শুক্রবার প্রায় ১০০০ জন অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যারা জীবন বাজি রেখে আটলান্টিকের উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপপুঞ্জে দাঁড়িয়ে পোপ বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা শরণার্থী ও অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যারা যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত মানুষের দুর্দশার প্রতি উদাসীন, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

বৃহস্পতিবার গ্রান ক্যানারিয়ার আরগুইনগুইন বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পোপ লিও ইউরোপীয় রাজনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষের মর্যাদার কোনো পাসপোর্ট হয় না এবং সীমান্ত অতিক্রম করলেই সেই মর্যাদার অবমূল্যায়ন ঘটে না। এক সময় করোনাকালীন মহামারির প্রাক্কালে সহস্রাধিক মানুষের মানবেতর পরিস্থিতির কারণে যে বন্দরকে ত্রাণ সংস্থাগুলো লজ্জার বন্দর হিসেবে অভিহিত করেছিল, সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে পোপ উচ্চারণ করেন যে, মৃত্যুর মিছিল দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়া আমাদের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সমুদ্রে প্রাণ হারানো অভিবাসীদের স্মারক বেদির পাশে দাঁড়িয়ে পোপ আক্ষেপ করে বলেন, যারা আজ কষ্ট পাচ্ছে, তাদের আর্তনাদ যেন উপকূলের স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে ইতিহাস যেন আমাদের দায়ী না করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা জীবন রক্ষা করেছি নাকি উদাসীনতার কাছে নতি স্বীকার করেছি, তা খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তার এই সফর মূলত তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের অসমাপ্ত এক ইচ্ছার প্রতিফলন, যিনি গত বছর মারা যাওয়ার আগে এই দ্বীপপুঞ্জ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছিলেন।

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত স্পেনের এই দ্বীপপুঞ্জে পোপের এই সফরকে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্প্যানিশ কমিশন ফর রিফিউজিস-এর সমন্বয়ক হুয়ান কার্লোস লরেঞ্জো। এদিকে ক্যামিনান্দো ফ্রনতেরাস নামক একটি অলাভজনক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ৩,০৯০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ৪৬,০০০-এর বেশি অভিবাসী ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে এই দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সম্প্রতি বিশ্বনেতাদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে পোপ লিও স্পেনের পার্লামেন্টে বলেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের প্রতি সহায়তার অভাব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্পেন অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলক উদার নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এই উদ্যোগের বিপরীতে চরম ডানপন্থী নেতাদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনাও করা হচ্ছে, যার ফলে হাজার হাজার অভিবাসীর আইনি স্বীকৃতির প্রক্রিয়া বর্তমানে ধীরগতির মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%