মার্কিন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেহরান দোহা বৈঠকে চলছে কাতার মধ্যস্থতায় আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে সংলাপের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। তবে চলমান আট মাসের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠকে বসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার (১১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা জানান। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনর্খুলতে তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি।

সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেছে তেহরান। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে চিঠিটির প্রতিটি দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ যদি কেবল কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন তৈরির কৌশল হয়, তবে তা হবে তাদের আরেকটি ঐতিহাসিক ভুল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা নিছক অনুমাননির্ভর এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল। এর আগে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) কাতার মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল তেহরান সফর করে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা চালায়। চলমান এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী পুনর্খুলতে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা কমিয়ে আনার যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তা ফলপ্রসূ হয়েছে। কাতার প্রস্তাবটি পাঁচ দিনে নামিয়ে আনতে বলেছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে বর্তমানে দুই দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য বেশ কিছু কঠিন পূর্বশর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা, এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল বিক্রির পথ সুগম করা। একই সঙ্গে কাতারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে জমে থাকা ইরানের জব্দকৃত সমস্ত তহবিল অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলোর বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটাতে এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তেহরানের পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সংলাপে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে নারাজ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

০%
০%
০%
০%