উত্তরাখণ্ডে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ধস, নিহত ৭

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৩ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভারী বর্ষণজনিত ভূমিধসের কারণে সুড়ঙ্গটির ভেতর পানি ও ধ্বংসস্তূপ ঢুকে পড়লে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা আটকা পড়েন।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রমিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই বর্তমানের প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ডার অমৃত লাল মিনা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রচুর পানি পাওয়া গেছে এবং পাশের দেয়ালগুলো থেকেও পানি চুইয়ে পড়ছে। ঘটনার পর থেকে সুড়ঙ্গে পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে টানা ভারী বর্ষণ ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূখণ্ডে অপরিকল্পিত বড় ধরনের নির্মাণকাজ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে পরিবেশবিদরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। গত মাসে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমেও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করার সময় ২০ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালেও উত্তরাখণ্ডের আরেকটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক ১৭ দিন আটকা পড়েছিলেন।
দেশটিতে জুন মাসে বার্ষিক মৌসুমী বৃষ্টিপাত শুরুর পর থেকে বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ভয়াবহতা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
