Advertisement

আরজি কর কাণ্ড: তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার

আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই প্রভাবশালীর গ্রেপ্তারিতে তদন্তে গতি এসেছে। ওড়িশা থেকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবারের পরিচিত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। এই দুই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তের মোড় ঘুরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

গত ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসকের স্মরণসভায় ভারতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর পরদিন ১০ আগস্ট নিহতের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকারের মতো গুরুতর অভিযোগে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের স্বার্থে খড়দহ থানার পুলিশ এরপর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ওপর নজরদারি বাড়ায়। গত কয়েকদিন এলাকাছাড়া থাকার পর লুধিয়ানা থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাকে আটক করে। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করা ও তথ্যপ্রমাণ নষ্টের নেপথ্যে তার ভূমিকার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। আপাতত তাকে জেরা করে ঘটনার নেপথ্য ষড়যন্ত্রের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পরপর এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত চিকিৎসকের মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভারতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। পাঁচ বছর আগে এমন আপসহীন নেতৃত্ব থাকলে হয়তো তার মেয়েকে অকালে প্রাণ দিতে হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

আরজি কর কাণ্ডের পাশাপাশি এনআরএস হাসপাতালের এক নার্সের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছেন নিহতের পরিবার। ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বর্তমানে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং ভবিষ্যতে আরও কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, এখন তা-ই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%