Advertisement

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ইতিহাস পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তন ২২টি গুরুত্বপূর্ণ পেপার বাদ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে আনা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সিলেবাস থেকে মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত পেপার বাদ দেওয়ায় ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপকদের একাংশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ৭ আগস্ট প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রমের কাঠামো জনসমক্ষে আসার পরই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

নতুন সিলেবাসে সেমিস্টার তিন থেকে ‘দ্য দিল্লি সুলতানেট: স্ট্রাকচারস অব অথরিটি ইন মিডিভাল নর্থ ইন্ডিয়া (১৩তম-১৪তম সেঞ্চুরি)’ শীর্ষক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পেপারটি বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু বছর ধরে স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠ্য এই কোর্সটির মাধ্যমে মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতেন শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকদের মতে, স্নাতক স্তরের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলা সমীচীন নয়, কারণ স্নাতকোত্তর স্তরের এই পেপারটি ছিল মূলত বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও গবেষণা নির্ভর।

বিজ্ঞাপন

শুধুমাত্র দিল্লি সুলতানাত নয়, মধ্যযুগীয় উত্তর ভারতের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘হিস্ট্রি অব নর্থ ইন্ডিয়া, সি. ১৪০০-১৫৫০’ পেপারটিও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একইসঙ্গে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের ওপর তৈরি ‘জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই’, ‘পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিস ইন এনশিয়েন্ট ইন্ডিয়া’ এবং ‘রিলিজয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন এনশিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিটারেচার’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও নতুন কাঠামোয় স্থান দেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, ইতিহাস বিভাগ মোট ৩৮টি ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক ইলেকটিভ বা ডিএসই পেপারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১৬টি পেপার রাখা হয়েছে, যার ফলে প্রস্তাবিত ২২টি পেপারই পাঠ্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে। নতুন এই স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমটি ‘পিজিসিএফ ২০২৪’-এর ভিত্তিতে এবং ভারত সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর কাঠামো অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নথিতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত কোর্স এখনও ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘অনির্ধারিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, যা পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইতিহাস শিক্ষার মূল অগ্রাধিকার ও বিষয়বস্তু নির্বাচন নিয়ে সরব হয়েছেন শিক্ষাবিদরা। দিল্লি সুলতানাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়কে পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নতুন কাঠামোয় ইতিহাস চর্চার মান ও পরিধি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%