হিমাচলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৫৭ জনের প্রাণহানি ও ৮৮৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

হিমাচল প্রদেশে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত, বিধ্বংসী ভূমিধস এবং আকস্মিক হড়পা বানে পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত ৩০ জুন থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৪১ দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত মোট ১৫৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য জরুরি অপারেশনস সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৮ জন এবং বিভিন্ন পথ দুর্ঘটনায় ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ২৫৭ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আরও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাম্বা জেলা, যেখানে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কাংড়া ও কুল্লু জেলায় ২১ জন করে, শিমলায় ২০ জন এবং লাহুল ও স্পিতিতে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় আবহাওয়া দফতর রাজ্যের পাঁচটি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে। আগামী কয়েক দিন দুর্যোগের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিধসের ফলে রাজ্যজুড়ে ২৫৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে মান্ডি-কুল্লু জাতীয় সড়ক অন্যতম। মান্ডি জেলায় সর্বাধিক ১২০টি সড়ক অবরুদ্ধ রয়েছে। এছাড়া চাম্বায় ৪২টি, কুল্লুতে ৪০টি এবং শিমলায় ৩০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি জনপদগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা সচল করার চেষ্টা করলেও বারবার ধস নামার ফলে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। মান্ডি, শিমলা এবং কুল্লু জেলা মিলিয়ে মোট ১৬১টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে পড়ায় অন্ধকারে ডুবে আছে বহু এলাকা। পাশাপাশি ৫৪টি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট। সব মিলিয়ে হিমাচল প্রদেশে ৯০০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়েছে, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮৮৬ কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়ে গেছে বলে সরকারি নথিতে উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
