AdvertisementAdvertisement

শালবনীর জমি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে নতুন নথি, সিআইডির নজরে প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশ

শালবনীর বহুল আলোচিত জমি জালিয়াতি মামলায় তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। এই মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর এবার ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছে। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি বর্তমানে পলাতক। তাঁকে খুঁজে পেতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি বিভিন্ন স্থানে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে। এমনকি তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেকের বাসভবনেও পুলিশের একটি দল হানা দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

মামলার মূল অভিযোগকারী শেখ ইমরান চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, জমি সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাঁর ওপর প্রবল প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে তিনি নতি স্বীকার না করে বরং নিজের দাবির সপক্ষে একের পর এক নথিপত্র জনসমক্ষে এনেছেন। শেখ ইমরানের তথ্য অনুযায়ী, শালবনীর যজ্ঞেশ্বরপুর মৌজায় সুজয় হাজরা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন খানের মালিকানাধীন জমিটিকে কৌশলে ‘খাস জমি’ বা সরকারি সম্পত্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। কিন্তু সরকারি নথিতে মালিকানা সরকারের অধীনে থাকলেও সেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি পেট্রোল পাম্প ও হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে, যা শরফুদ্দিন খানের স্ত্রী মালতী বিবির নামে পরিচালিত হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সরকারি জমিতে কীভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল এবং প্রশাসনিক কোনো তোড়জোড় কেন দেখা গেল না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ ইমরান। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদতে সরকারি জমি জবরদখল করে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই মামলাটি সিআইডির হাতে ন্যস্ত করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই জালিয়াতি চক্রে শুধু সুজয় হাজরা বা সুমিত রায় নন, বরং শরফুদ্দিন খান, কৈলাস আগরওয়াল এবং নিত্য রায়ের মতো ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিআইডি সূত্রে খবর, জমির মালিকানা পরিবর্তন, নথিপত্রে কারচুপি এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত আর্থিক লেনদেনের উৎস সন্ধানে তদন্তকারীরা বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পলাতক অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে রাজ্যজুড়ে সিআইডির তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%