নেপালে হিন্দু রাষ্ট্র পুনর্বহালের দাবি জোরদার জনপ্রতিনিধিদের ঘিরে ক্ষোভ

নেপালে পুনরায় হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমশ তীব্রতর হয়ে উঠছে, যা এখন কেবল রাজপথে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় নিয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষ তাঁদের নির্বাচিত সাংসদদের ঘেরাও করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংসদে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষ করে সিরহা জেলায় ন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির সাংসদ বাবলু গুপ্তার সম্মুখীন হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেননি জনপ্রতিনিধিরা।
গত ২৬ জুলাই রাতে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এই দাবিপত্রে সুনসারি জেলার দেওয়ানগঞ্জে ঘটা সাম্প্রতিক সংঘাতের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দায়ীদের চিহ্নিত করা, নিহতদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবিও জোরালো হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবি, বৌদ্ধ ও কিরাত ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই নেপালকে ‘বৈদিক সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা অবিলম্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অজুহাতে রোহিঙ্গা, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করার এবং ১৯৯০ সালের পর প্রদত্ত নাগরিকত্বের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার দাবি তুলেছে তারা।
তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এই দাবির বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হিন্দু রাষ্ট্র পুনর্বহালের দাবিটি রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিষয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে, নেপালের বর্তমান ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সুসংহত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষা ও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
