AdvertisementAdvertisement

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ রাজ ঠাকরের নয় কর্মী গ্রেপ্তার

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুললেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে। শনিবার দলের এক ছাত্র সংগঠনের অনুষ্ঠানে রাজ ঠাকরে দাবি করেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির ঘিরে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উত্থাপন করেন, যদিও এসব অভিযোগের সপক্ষে তিনি কোনো নথিপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

রাজ ঠাকরের দাবি অনুযায়ী, মন্দিরের আর্থিক অনিয়ম দীর্ঘদিনের। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি মন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন সদস্য মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছিলেন। রাজ ঠাকরে আরও বলেন, অতীতে মন্দিরের সাপ্তাহিক অনুদানের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকার কম থাকলেও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর তা বর্তমানে দেড় কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তাঁর মতে, অনুদানের এই নাটকীয় বৃদ্ধিই বিগত দিনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক তছরূপের নীরব সাক্ষী।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং শিবসেনা নেতা সদা সর্বংকর জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে মন্দিরের নয়জন কর্মচারীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ফলে মন্দিরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, দুই বছর আগে মন্দিরের বার্ষিক আয় ১১৪ কোটি টাকা থাকলেও, বর্তমানে তা ১৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

তবে রাজ ঠাকরে অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে যে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এহেন বিস্ফোরক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মন্দিরের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও, কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধের পূর্ণ সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%