AdvertisementAdvertisement

টক্সিক ছবির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের জেরে কিয়ারার পাশে হুমা কুরেশি ও সতীর্থরা

‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ চলচ্চিত্রের প্রথম গান ‘তাবাহি’ প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। সুপারস্টার যশের সঙ্গে পর্দায় তাঁর রসায়ন এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝড়। পর্দার চরিত্রের জন্য অভিনেত্রীকে যেভাবে ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে, তা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন সহশিল্পী হুমা কুরেশি।

একটি সাক্ষাৎকারে হুমা স্পষ্ট ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হুমার মতে, এ ধরনের সমালোচনা অত্যন্ত নিম্নরুচির। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সমালোচকদের কথার লড়াইয়ে জবাব দেওয়ার চেয়ে কাজের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া বেশি কার্যকর। হুমা বিশ্বাস করেন, ছবি মুক্তির পর অভিনেত্রী এবং পরিচালক গীতু মোহনদাসই শেষ হাসি হাসবেন, কারণ সৃজনশীল কাজের জবাব কেবল পর্দার মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই বিতর্কে সুর মিলিয়েছেন হুমার ভাই ও অভিনেতা সাকিব সালিমও। ইন্টারনেটের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, পর্দার অভিনয় নিয়ে যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, তাদের উদ্দেশ্য আসলে কী? বাস্তবে মানুষ অনেক বেশি মানবিক হলেও ভার্চুয়াল জগত প্রায়শই বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা তারকাদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে লিঙ্গভিত্তিক বিচার-বিবেচনা। পর্দায় একই দৃশ্যে অভিনয় করেও যশ যেখানে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই, সেখানে কিয়ারাকে কেন ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে? এই বৈষম্য আবারও প্রমাণ করে যে, বিনোদন জগতে আজও নারী শিল্পীদের অনেক বেশি কঠোর মানদণ্ডে বিচার করা হয়। এমনকি কিয়ারার স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছেছে এই নেতিবাচক মন্তব্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে কিয়ারা নিজের কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ ছবিতে ‘নাদিয়া’ চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। পরিচালক গীতু মোহনদাসের বর্ণনা শোনার পর থেকেই চরিত্রটির জটিলতা ও গভীরতার প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। কিয়ারার মতে, শক্তি, ভঙ্গুরতা এবং সংবেদনশীলতার মিশেলে গড়া নাদিয়া চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

অভিনেত্রী আরও জানান, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনেক আগে থেকেই শুরু হয় তাঁর প্রস্তুতি। একটি চরিত্রকে জীবন্ত করতে এর আবেগ, ভয় ও প্রেরণার গভীরে ডুব দিতে হয়। দর্শকদের সামনে থাকা গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই দীর্ঘ পরিশ্রম ও প্রস্তুতির গল্পই হলো একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয়। ‘কেজিএফ’ খ্যাত যশ অভিনীত এবং গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই বিগ বাজেটের ছবিটি আগামী ২৬ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে কিয়ারা ছাড়াও দেখা যাবে নয়নতারা, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের মতো তারকাদের।

0%
0%
0%
0%