AdvertisementAdvertisement

তরুণ প্রজন্মের মন জয়ের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌশলী বদল আনছে বিজেপি

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নতুনভাবে সংযোগ স্থাপনের কৌশল গ্রহণ করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। প্রথাগত রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি এবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে দলটি। জেন-জি বা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের সাথে সরাসরি এবং খোলামেলা আলোচনার লক্ষ্যে বিজেপি এখন ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডলের গণ্ডি পেরিয়ে ইনস্টাগ্রাম, রেডিট ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজেদের সক্রিয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, বিগত এক মাসের ঘটনাবলী স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তরুণ প্রজন্মের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করা জরুরি। বর্তমান প্রজন্ম কেবল আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে নারাজ, তারা প্রতিটি বিষয়ে স্বচ্ছ জবাবদিহি চায়। বিজেপির নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা প্রশাসনিক রদবদলই যথেষ্ট নয়; বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তরুণদের কাছে পৌঁছাতে এক্স ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়, বরং বিরোধী দলগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিজেপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে বিজেপি অভূতপূর্ব সাফল্য পেলেও ২০২৪ সালে এসে চিত্রটা বদলেছে। বর্তমানে বিরোধী দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অবস্থান বেশ সংহত করেছে, যা গেরুয়া শিবিরকে নতুন করে কৌশল পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজেপি দেশজুড়ে প্রতিটি জেলায় তরুণ কর্মীদের সমন্বয়ে বিশেষ ডিজিটাল টিম গঠনের পরিকল্পনা করছে। দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, সমবয়সীদের ভাষা ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে তরুণরাই সবচেয়ে পারদর্শী, তাই তাদের মাধ্যমেই সরকারের বার্তা যুবসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া অধিক কার্যকর হবে।

এই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এরই মধ্যে মন্ত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের ইনস্টাগ্রামে সেলফি মোডে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে পোস্ট করা তারই একটি প্রতিফলন। বিজেপি মনে করছে, জটিল পরিসংখ্যান বা দীর্ঘ রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং ইনস্টাগ্রাম রিলস কিংবা আকর্ষণীয় গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের বার্তা তরুণদের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এনডিএ সাংসদদের এক বৈঠকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের যে তথ্য তুলে ধরেছিলেন, তা তরুণদের উপযোগী করে সহজভাবে প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির মতে, নিট বিতর্কের সময় সরকারের সঠিক পদক্ষেপ ও তথ্য শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন পুনরাবৃত্তি এড়াতে জেন-জি প্রজন্মের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর যোগাযোগের একটি মজবুত ডিজিটাল কাঠামো গড়ে তোলাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%