জে পি নড্ডার সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের সাক্ষাতে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর যখন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, ঠিক তখনই দিল্লির সংসদীয় আঙিনায় বিজেপি নেতা জে পি নড্ডার সঙ্গে তৃণমূলের দুই প্রবীণ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়ের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত একটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বৈঠকে নড্ডার সঙ্গে এই দুই সাংসদের সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
যক্ষ্মা প্রতিরোধ সংক্রান্ত ওই সরকারি বৈঠকে তৃণমূলের শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ একাধিক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে বিজেপি নেতা জে পি নড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহাকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সৌগত রায়কেও নড্ডার সঙ্গে একই টেবিলে বসে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিতে দেখা গেছে, যার ছবি এখন নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে এই বৈঠক বা কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সম্প্রতি ১৯ জন সাংসদের এনসিপিআই গঠন করে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ার আবহে এই ঘটনাকে সাধারণ সৌজন্য হিসেবে দেখতে রাজি নন অনেকেই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে আসা ১৯ জন সাংসদ নতুন দল গঠন করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি এনডিএ-র শরিক হিসেবে আসন বরাদ্দের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। ভারতর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু নতুন এই দলকে সর্বদলীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানোয় এনডিএ-র সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপিআই-এর অবস্থান এবং বিজেপির সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়ের এমন উপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সাক্ষাৎ কেবলই শিষ্টাচার ছিল, নাকি এর আড়ালে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
