মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নয়, সাধারণ আলোচনা ছিল মাঠের সেই মুহূর্ত, জানালেন বেলিংহাম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা দুর্দান্ত প্রতাবর্তনের মাধ্যমে জয়ের বন্দরে পৌঁছায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গ হলেও মাঠের ভেতরে লিওনেল মেসি এবং জুড বেলিংহামের মধ্যকার উত্তপ্ত কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে টিভি ক্যামেরায় মেসি ও বেলিংহামকে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে যে দুই তারকার মধ্যে মাঠের উত্তাপে বচসা হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তরুণ ব্রিটিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম স্পষ্ট জানান, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মূলত একটি ফাউল নিয়ে তাদের মধ্যে সাধারণ আলোচনা হচ্ছিল, এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না।
বেলিংহাম আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি মেসিকে বলেছিলেন যে ফাউলটি সম্পর্কে তার ভিন্ন মতামত রয়েছে। জবাবে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, তার ওপর হওয়া ফাউলটি কেন উপেক্ষা করা হচ্ছে। বেলিংহাম রসিকতা করে তখন মেসিকে বলেছিলেন, তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এই পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবেন। কিংবদন্তি মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা তার কাছে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করে বেলিংহাম হারের কষ্ট ভুলে প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আটলান্টার এই লড়াইয়ে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলটি আসে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে। যদিও গোল করতে পারেননি, তবুও মেসির অসাধারণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
এই জয়ের ফলে আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে পড়া ইংল্যান্ডকে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের অপেক্ষায় থাকা ইংলিশ শিবিরের জন্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আরও একবার অপূর্ণই রয়ে গেল।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস