পিএইচডিধারী অধ্যাপকের ক্যাব চালনা জীবনসংগ্রামের নির্মম বাস্তবতায় তামিলনাড়ু উত্তাল

তামিলনাড়ুর উচ্চশিক্ষিত এক শিক্ষকের জীবনসংগ্রামের একটি হৃদয়স্পর্শী চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী ড. ই থিরুমালাই রাজা বর্তমানে চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে চুক্তভিত্তিক প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তবে অ্যাকাডেমিক জগতের সম্মানজনক পেশার পাশাপাশি সংসারের ব্যয়ভার বহনের কঠোর বাস্তবতায় তাঁকে বেছে নিতে হয়েছে ক্যাব চালকের পেশা। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মেধাবী শিক্ষকের জীবনের করুণ আখ্যান সম্প্রতি অনন্ত রূপানগুড়ি নামের এক নেটিজেনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।
ড. থিরুমালাই রাজার শিক্ষাগত যোগ্যতা যে কোনো সাধারণ মানুষের জন্য বিস্ময়কর। ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি, এমফিল ও এমএ ডিগ্রির পাশাপাশি তিনি মনোবিজ্ঞানে এমএসসি এবং বিএডসহ শিক্ষক শিক্ষায় ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। ‘ব্ল্যাক হিউমার ইন ইন্দো-অ্যাংলিয়ান রাইটিং’ শীর্ষক বিষয়ে তাঁর গভীর গবেষণা রয়েছে। এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপন, গেস্ট লেকচারার হিসেবে পাঠদান এবং ইউজিসি তালিকাভুক্ত জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে অতীতে নামাক্কালের একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর মাসিক বেতন ছিল ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে চুক্তভিত্তিক প্রভাষক হিসেবে তিনি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। তবে স্ত্রী ও দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তান নিয়ে সংসার চালানোর জন্য বর্তমান সময়ের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই অর্থ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের অন্নসংস্থান নিশ্চিত করতে দিনের একটি বড় অংশ শিক্ষকতার পেছনে ব্যয় করার পর অবশিষ্ট সময়ে তিনি ক্যাব চালান। পরিবার নামাক্কালে থাকলেও কাজের সন্ধানে তিনি চেন্নাইতে একাকী বসবাস করছেন। উচ্চশিক্ষিত একজন মানুষের এমন জীবনযুদ্ধের বাস্তবচিত্র জনমনে তীব্র প্রতিবাদের সুর তুলে ধরেছে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাবীদের মূল্যায়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস