AdvertisementAdvertisement

স্ত্রী-সন্তানসহ খাদে গাড়ি ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খারিজ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আনা হত্যা চেষ্টার সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান মাটেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আসে আদালতের নির্দেশে দুই বছর মেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর। মামলার রায় অনুযায়ী প্যাটেলের পাসপোর্টও তাঁকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান মাটেও কাউন্টির ডেভিলস স্লাইড এলাকায় হাইওয়ে-১ থেকে ৪১ বছর বয়সি চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেল ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িটি খাদে ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পাথুরে সৈকতে গাড়িটি আছড়ে পড়ার পরও প্যাটেলসহ তাঁর স্ত্রী নেহা প্যাটেল এবং দুই সন্তান অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা গাড়ি কেটে তাঁদের বের করে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে প্যাটেলের স্ত্রী তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন যে, তাঁর স্বামী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধর্মেশ প্যাটেলের প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, ঘটনার সময় তিনি গুরুতর বিষণ্নতা ও মানসিক বিভ্রমে ভুগছিলেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যে উঠে আসে যে, প্যাটেল বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে এক চরম অযৌক্তিক আতঙ্কে ছিলেন। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আদালত তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করেন। দুই বছর ধরে নিয়মিত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং আদালতের সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার পর চূড়ান্তভাবে মামলাটি খারিজ করা হলো।

তবে আদালতের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্যান মাটেও কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হত্যা চেষ্টার মতো এমন জঘন্য ও গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে ফৌজদারি অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই ধরনের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পুনর্বিবেচনা জরুরি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ডেভিলস স্লাইডের এই ঘটনা তৎকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। একটি পরিবারের অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার জটিল সমীকরণ নিয়ে দেশটিতে শুরু হয় গভীর বিতর্ক। আদালতের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের পর বিচারের এই পদ্ধতি নিয়ে মার্কিন সমাজে ফের নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%