কলকাতার ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে ট্রাম পরিষেবা আধুনিকীকরণের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো কলকাতার ট্রাম পরিষেবাকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের সরকার। শহরের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এই পরিবহণ মাধ্যমটির আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাইটসকে দায়িত্ব প্রদান করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।

বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাইটস ধাপে ধাপে ট্রাম পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও আধুনিকীকরণের রূপরেখা তৈরি করবে। বর্তমানে শহরের কয়েকটি সীমিত রুটে ট্রাম চলাচল করলেও, প্রথম পর্যায়ে সেই রুটগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে ট্রাম পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও এই সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত।

ভবিষ্যতে ট্রাম পরিষেবাকে কেবল শহরের কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না রেখে সল্টলেক, নিউটাউন এবং রাজারহাটের মতো তথ্যপ্রযুক্তি ও আবাসনকেন্দ্রিক এলাকা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় ও পর্যটন গুরুত্ব বিবেচনায় কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রাম করিডর তৈরির বিষয়েও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রামকে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

রাইটসের সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পের আর্থিক ব্যয়, পরিকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার পরই আধুনিকীকরণের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভারতের রাজ্য পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার ট্রাম পরিষেবার উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঐতিহ্যের এই বাহনটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছিল। তিনি বলেন, কলকাতার গৌরব রক্ষা ও আধুনিক নগর পরিবহণকে শক্তিশালী করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পের পুনর্জাগরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ট্রামকে আবারও শহরের গণপরিবহণের অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এখন সমীক্ষা শেষে পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার গতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%