প্রেমিকের সহায়তায় বাগদত্তাকে দুর্গের পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত তরুণী

মহারাষ্ট্রের পুণেতে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে লোহাগড় দুর্গের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় গোটা ভারত জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ২৬ বছর বয়সি কেতন বিশাল আগরওয়াল ছিলেন ‘সাকসেস গ্রুপ’-এর পরিচালক। এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে পুলিশ কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক চাপের মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে এড়াতে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুন, যখন পুণের লোনাভলার ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে নিচে পড়ে কেতনের মৃত্যু হয়। শুরুতে সিয়া দাবি করেছিল, ছবি তোলার সময় অসাবধানতাবশত কেতন পাহাড় থেকে পড়ে গেছে। তবে পুলিশের দীর্ঘ জেরায় সেই বয়ান ভেঙে পড়ে এবং বেরিয়ে আসে এক রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের জাল। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালেই সিয়া ও চেতন একটি ক্যাফেতে বসে কেতনকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল।
নিহত কেতন আগরওয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাবসন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান সিয়ার সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয় এবং আগামী নভেম্বরে রাজস্থানে প্রায় ১৭ কোটি রুপির বিশাল বাজেটে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া এই সম্পর্কে সুখী ছিলেন না। পুলিশের তথ্য মতে, কেতনের সঙ্গে বাগদান ও বিয়ের প্রস্তুতিতে সিয়ার প্রবল আপত্তি ছিল, যা তিনি বারবার ব্যক্ত করলেও পরিবার তাতে কর্ণপাত করেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সিয়া ও চেতন গত সাত মাসে প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা ফোনে ২,০০৪ বার কথা বলেছে। গত বছর দীপাবলির উৎসবে পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, লোহাগড় দুর্গে কেতনকে হত্যার সময় ২২ বছর বয়সি চেতন নিজের পরিচয় লুকাতে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হুডি পরিহিত ছিল। এর আগেও ১৪ জুন একবার সিয়া কেতনকে পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে পুণে গ্রামীণ পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। এদিকে, অভিযুক্ত চেতনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সন্তানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং ঘটনার সময় চেতন মূল স্থান থেকে দূরে ছিল। তবে পুলিশের দাবি, সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান হত্যার নেপথ্যে সিয়া ও চেতনের যোগসাজশের দিকেই আঙুল তুলছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা ও পারিবারিক চাপের ভয়াবহ পরিণতির এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস