তারাতলায় গুদাম ধসে মৃত বেড়ে ৯, পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হয়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরব হলেন ভারতের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূল শাসিত কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দাবি করেন, ধসে পড়া ওই গুদামটির নির্মাণ পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি এবং সেই নথিতে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ একাধিক পুর কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘সিটি অফ জয়’ কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে তৃণমূল সরকার। একের পর এক বিপর্যয় ঘটলেও প্রশাসন কোনো শিক্ষা নেয়নি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনুমোদন সংক্রান্ত নথিতে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু সরকার, কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাস এবং তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর বিদ্যমান।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে আশ্বাস দিলেও, গাফিলতি প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মূল নকশা বহির্ভূত নির্মাণ, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।
উদ্ধারকাজ নিয়ে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী পুর প্রশাসনের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আধুনিক সরঞ্জাম কেনায় দীর্ঘকাল ধরে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছে কলকাতা পুরসভা। যার ফলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো অত্যাধুনিক যন্ত্র না থাকায় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্ট তাদের নিজেদের সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বাধ্য হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘কালী’ নামক এক ব্যক্তির প্রভাবেই বহু অনিয়ম হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের সমন্বিত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, উদ্ধারকারী দলগুলোর সম্মিলিত প্রয়াসেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
