ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রাখলেন ট্রাম্প

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনও সুনিশ্চিত নয়।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি সমঝোতা স্মারক মাত্র। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি আশানুরূপ ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তবে মার্কিন বাহিনী আবারও সামরিক অভিযানের পথ বেছে নিতে পারে। গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, শর্তগুলো পছন্দ না হলে বা তেহরানের আচরণ পরিবর্তন না হলে ওয়াশিংটন কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
উল্লেখ্য, এর আগের রবিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং তিনি তাতে সইও করেছেন। তবে তিন দিন পার না হতেই তার এই ভোলবদল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শান্তি আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে এবং তেহরানের ওপর ক্রমাগত সামরিক চাপ বজায় রাখতে ট্রাম্প কৌশলে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, জি-৭ সম্মেলনের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর মধ্যে রসিকতার ঘটনাও নজর কেড়েছে। বুধবার সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ট্রাম্প উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সামনে নিজেকে ‘বস’ বলে সম্বোধন করলে হাসির রোল পড়ে যায়। আগেরবারের তুলনায় এবারের সম্মেলনে ট্রাম্পের দীর্ঘ উপস্থিতি ও যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
সম্মেলন শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মাক্রোঁর আমন্ত্রণে ভার্সাই প্রাসাদে একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন ট্রাম্প। তবে জেনেভার নির্ধারিত শান্তি চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের দামামা বাজবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
