গাইবান্ধায় প্রতিমা অবমাননার প্রতিবাদে শাহবাগে উত্তাল বিক্ষোভ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

গাইবান্ধায় ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতিমা অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে সমবেত হন শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বী। বিক্ষুব্ধ জনতা মশাল মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উত্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। অংশগ্রহণকারীরা হাতে মশাল ও নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করে মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন। ‘আমার মাটি, আমার মা, বাংলাদেশ ছাড়ব না’ এবং ‘জঙ্গিবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’-এর মতো শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বক্তারা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায় বরাবরই রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অবিচল আস্থা রেখে আসছে। অথচ বারবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসার পরও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, এই ঘটনা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের হুমকি।

আন্দোলনকারীরা সরকারের উদ্দেশে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেছেন। এই সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমন্বয়করা। এছাড়া আগামী রবিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শনিবার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি নিছক প্রতিমা অবমাননার অভিযোগ ছাপিয়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের এই প্রতিবাদ শুধু ঢাকার রাজপথে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রয়োজনে দেশের ৬৪ জেলায় এই দাবির আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%