পর্যটন সম্ভাবনায় উজ্জ্বল কিশোরগঞ্জের পাটুলীঘাট অথচ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পাটুলীঘাটকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘোড়াউত্রা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই স্থানটি দীর্ঘকাল ধরে হাওরাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশের কারণে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিস্তৃত হাওরের জলরাশি, নৌকা ভ্রমণ এবং সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌন্দর্যপিপাসুরা এখানে ভিড় করেন।
প্রকৃতির আপন খেয়ালে সাজানো এই হাওরাঞ্চলের প্রতিটি ঋতুতেই রয়েছে ভিন্ন আমেজ। বৈশাখের ফসল তোলার মৌসুমে হাওরবাসীদের কর্মব্যস্ত জীবন এবং দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ এক অনন্য গ্রামীণ দৃশ্যের অবতারণা করে। এছাড়া গোয়ালভরা গরু, গোলাভরা ধান, মহিষের বাথান ও হাঁসের খামারগুলো হাওরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার এক অসাধারণ চিত্র তুলে ধরে। শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন হাওরে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ এবং বর্ষায় দ্বীপের মতো ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলো পর্যটকদের মাঝে এক মায়াবী অনুভূতির সৃষ্টি করে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে বিস্তৃত হাওরাঞ্চলে ৪২৩টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২২টি হাওর অবস্থিত, যার অন্যতম প্রবেশদ্বার বাজিতপুরের এই পাটুলীঘাট। এত বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যথাযথ উদ্যোগ ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এই অঞ্চল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সেভাবে গড়ে ওঠেনি।
সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে পাটুলীঘাট দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পরিকল্পিত উদ্যোগ হাওরবাসীর জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।