ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করে আজাদ পার্টির বিক্ষোভ, নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভারতবিদ্বেষ

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র ব্যানারে আয়োজিত এক মিছিল থেকে ভারতবিরোধী স্লোগান ও উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। তথাকথিত ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ রুখে দেওয়ার ডাক দিয়ে মিছিলকারীরা ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালালে গুলশান-১ এলাকায় পুলিশি ব্যারিকেডে তাদের গতিরোধ করা হয়। ওই স্থান থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুত্তলিকা দাহ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়, যা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রীবেদীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত এই অস্থিরতার সূত্রপাত। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্মিলিত মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে যৌথ অগ্রগতির যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার, তাকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এক শ্রেণির রাজনৈতিক গোষ্ঠী। তাদের দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘দখল’ করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদিও এ ধরনের অভিযোগকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অভূতপূর্ব সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের আবহে একটি বিশেষ মহল সেই ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার লক্ষ্যে ভারতবিরোধী আবেগকে উসকে দেওয়ার খেলায় মেতে উঠেছে। এই দ্বিমুখী আচরণের একটি বড় উদাহরণ হলো, একদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বজায় রাখা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে বিষোদগার করা।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য দেশটির ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ ও ভারতের উন্নত অবকাঠামোর সুফল ভোগ করার পরও এই ধরণের ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উচিত আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তববাদী ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন বজায় রাখা।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%