আজাদ কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে

আজ সোমবার আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মিরপুর বিভাগে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পাকিস্তানর সরকার ১৭ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য এবং ২২ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। একে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
মুজাফফরাবাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব খুশহাল খান এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব রাজা মুহাম্মদ শাকিল খান জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে মিরপুর বিভাগের সবকটি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২ আগস্ট মুজাফফরাবাদ বিভাগ ও শরণার্থী আসনগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে এবং এরপর রাওয়ালাকোট বিভাগে ভোট নেওয়া হবে।
মুখ্য সচিব খুশহাল খান জানান, সরকারি বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে পাকিস্তানর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে খুশহাল খান জানান, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, পাকিস্তানের চার প্রদেশের পুলিশ সদস্য, রেঞ্জার্স এবং ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সমন্বয়ে গঠিত ১৭ হাজার সদস্য নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেউ ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, গুজব ও ভুল তথ্য রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। তিনি নাগরিকদের কেবল নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উসকানিমূলক বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন সচিব রাজা মুহাম্মদ শাকিল খান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথম পর্যায়ের সব প্রস্তুতি তাদের সন্তুষ্টি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ