এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েও তৃণমূলের মালিকানা ও প্রতীকের লড়াইয়ে অনড় বিক্ষুব্ধ সাংসদরা

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে তাঁরা নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর থেকে নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন; বরং দলের প্রতীক, সাংগঠনিক সম্পদ এবং ১৬০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবীণ এই সাংসদ।
টিভি৯ বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করেছেন যে, আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনো দলে যোগ দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ঝুঁকি থাকে না। সেই আইনি সুরক্ষাবলয় নিশ্চিত করতেই তাঁরা এনসিপিআই-এর আশ্রয় নিয়েছেন। আগামী ২০ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরুর অপেক্ষায় থাকা এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের লক্ষ্য হলো, স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং দলের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আইনি বৈধতা অর্জন করা।
দলীয় প্রতীক এবং সাংগঠনিক কাঠামোর মালিকানা প্রসঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি একান্তই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং আইনজীবীরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বস্তুত, নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিলেও তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরাধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ এই অংশটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কৌশলী অবস্থানের ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ কেবল ভাঙনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দলটির নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি বৈধতা নিয়ে এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।
নিজের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা চিন্তার কথা তুলে ধরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা নয়, বরং তাঁকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর উপদেষ্টা হিসেবে দেখা। বহু বছরের শ্রমে গড়ে ওঠা তৃণমূলের রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং কর্মীদের অসামান্য অবদান যেন কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিলীন না হয়ে যায়, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলার রাজনীতির ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, একবার ক্ষমতাচ্যুত হলে কোনো দলের পক্ষেই ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত কঠিন, যা তাঁকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
