ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত, আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি নয়াদিল্লির

ওমান উপকূলের কাছে তেলবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পালাউ-নিবন্ধিত জাহাজ ‘এমটি সেত্তেবেলো’র ওপর চালানো এই হামলায় ভারতের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে নিজেদের অসন্তোষের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ সূত্র দাবি করেছে, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট জাহাজটিকে প্রায় ৬০ বার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। হরমুজ প্রণালীতে চলমান মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে অগ্রসর হওয়ার সময় জাহাজটিকে থামাতে বারবার রেডিও বার্তা, যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ফ্লাইপাস্ট এবং ফ্লেয়ার নিক্ষেপের মতো সামরিক সংকেত দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, ইঞ্জিন রুম খালি করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তবে এই হামলায় প্রাণ হারান তিন ভারতীয় নাবিক, যদিও বাকি ২১ জন ক্রুকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা। তাদের দাবি, জাহাজের সঙ্গে ইরানের কোনো প্রকার যোগসূত্র ছিল না এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। এই ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য মহলে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত তিন নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশনায় সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুটে কর্মী নিয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অস্বস্তির জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস