দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নিয়ে তৎপর রাজ্য প্রশাসন জোর কদমে শিল্পায়নের পথে হলদিয়া

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ঠিক এক মাস পার না হতেই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের প্রধান সচিব বন্দনা যাদব। পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে প্রস্তাবিত এই বন্দর এলাকার সরকারি জমির পরিমাণ, অতিরিক্ত জমির প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে তিনি জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সুনির্দিষ্ট হিসাব ও বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী লজিস্টিক করিডরসহ সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গভীর সমুদ্র বন্দরটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানের বৃহদাকার পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি নোঙর করার সুযোগ পাবে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

বন্দর এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বুধবার হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কার্যালয়ে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৩৫টি বৃহৎ শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প সম্প্রসারণের পথে বিদ্যমান প্রশাসনিক বাধা দূরীকরণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিল্প প্রতিনিধিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাজ্য সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রধান সচিব বন্দনা যাদব বৈঠকের শেষে নিশ্চিত করেছেন যে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্থা দুটি হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কাছে জমির আবেদনও করেছে। প্রশাসনের দৃঢ় বিশ্বাস, জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে বিনিয়োগের পথ আরও সুগম হবে।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প ইউনিট গড়ে উঠবে, যা উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ এবং পরিষেবা খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং শিল্পাঞ্চলের এই নতুন বিনিয়োগ রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অঞ্চলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%