সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৬০টি কমিটিকে অনুদান ঘোষণা

রীতি অনুযায়ী সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাজপথ পরিষ্কারের মাধ্যমে কলকাতায় ইসকন আয়োজিত রথযাত্রার শুভ সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসকন মন্দিরে পৌঁছে প্রভু জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে পুজো ও আরতি সম্পন্ন করেন তিনি। রথের রশি টেনে উৎসবের সূচনা করার পাশাপাশি, ইসকন প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের ব্যবহৃত কক্ষটি পরিদর্শনে গিয়ে সেটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ভারতর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বেলা ১২টার কিছু পরে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ইসকনের সন্ন্যাসীরা তাঁকে স্বাগত জানান। সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে এই উৎসবে শামিল হতে পেরে তিনি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ভক্তদের অনুরোধে তিনি গৌড়ীয় সংগীত পরিবেশন করলে উপস্থিত জনতা জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠেন। রথযাত্রার মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করাই ভারতর সরকারের মূল লক্ষ্য।

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বছর রাজ্যের মোট ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সর্বমোট ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া রাজ্যের মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় ইসকনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি জানান, রাজ্যের ২২টি বড় শহরে মিড-ডে মিলের দায়িত্বে থাকা ইসকন অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার পরিবেশন করছে, যা বর্তমান সরকারের স্বচ্ছ ও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থারই অংশ।

এদিকে রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে টুইটবার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জগন্নাথদেবের কাছে সকলের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রথযাত্রা ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

ইসকন চত্বরে আয়োজিত এই উৎসবে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা এবং তা টানার মাধ্যমে জীবনে শুভ শক্তির উদয় ঘটে এবং সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই মিলনমেলা রথযাত্রাকে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%