কিউবার গোয়েন্দা সংস্থার রূপকার রামিরো ভালদেসের মৃত্যু

কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার এবং দেশের বিতর্কিত গোয়েন্দা সংস্থা গড়া ভ্যালদেস পরিবারের অন্যতম কাণ্ডারি রামিরো ভ্যালদেস ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ভ্যালদেসকে জাতির সেবায় নিবেদিত এক আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রামিরো ভ্যালদেস ছিলেন কিউবার বিপ্লবের সেই হাতেগোনা কয়েকজন নেতার একজন, যারা ফিদেল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে গেছেন। ১৯৫৩ সালে ফুলজেন্সিও বাতিস্তার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে মনকাডা ব্যারাকে ব্যর্থ হামলার সময় তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোদ্ধা ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়ের আগে তিনি আর্নেস্তো চে গেভারার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামরিক নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভ্যালদেস কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নীতিনির্ধারক হওয়ার পাশাপাশি দুই দফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং একবার উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাশিয়ার কেজিবি-র আদলে কিউবার কুখ্যাত জি-২ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রধান স্থপতি ছিলেন। এই সংস্থার মাধ্যমেই তিনি দেশে-বিদেশে বাতিস্তা-পরবর্তী সরকারের বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন এবং নজরদারির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।

এদিকে ভ্যালদেসের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেই কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে মুক্তবাজার অর্থনীতির বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। বিপ্লব-পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে এটিই দেশটির অর্থনৈতিক কৌশলের সবচেয়ে বড় সংস্কার। নতুন এই প্যাকেজের আওতায় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং মার্কিন প্রশাসনের অব্যাহত জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির মুখে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার টিকে থাকার নতুন পথ খুঁজছে। তবে ভ্যালদেসের প্রস্থান কিউবার বিপ্লবী ইতিহাসের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%