লন্ডনে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার যে প্রস্তাব জেলেনস্কি তুলেছেন, তার প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় শক্তিধর এই তিন দেশ মনে করছে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখন আলোচনার বিকল্প নেই।
সোমবার ভোরে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও গোলাবর্ষণ করেছে। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই হামলায় ৫ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
একই সময়ে ওদেসা অঞ্চলে রুশ বাহিনীর হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ওদেসার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, ঘটনার আগের দিনই রাশিয়ার বাহিনী চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত একটি পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছিল। একের পর এক এসব হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া কর্তৃক দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি ট্রেনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ট্রেনটির সহকারী চালক নিহত এবং মূল চালক আহত হয়েছেন। ক্রিমিয়ার রুশ-নিযুক্ত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের একটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার পর ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং নভোরোসিস্ক বন্দরের একটি লোডিং কমপ্লেক্সেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের এই ভয়াবহতার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা গতি পেয়েছে। লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক যৌথ বিবৃতিতে জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতি ও সরাসরি আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইউরোপের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও অংশগ্রহণ শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের জন্য অন্যতম অগ্রাধিকার।