AdvertisementAdvertisement

দক্ষিণ কিভুতে সংঘর্ষ বৃদ্ধি, শান্তি আলোচনার মাঝেও বিপদে বেসামরিক জনগণ

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার ও এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামেনি। ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছে।

সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় কঙ্গো সরকার এবং এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ করা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একই সময়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সহায়তায় সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন এলাকায় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কিভুর পার্বত্য অঞ্চল মিনেম্বওয়েতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ সংঘর্ষের মাঝখানে আটকা পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের শুরু থেকে এম২৩ বিদ্রোহীরা পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে একটি শান্তি ও অর্থনৈতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে সেই চুক্তির পরও সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি, বরং বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে দিচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কিভুর পার্বত্য অঞ্চলে বেসামরিক জনগণ এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত সহিংসতা, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং মানবিক সংকট গভীরতর হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%