ইয়েমেনের তায়েজে হুথি হামলা প্রতিহত করল সরকারি বাহিনী, তীব্রতর হচ্ছে সামরিক উত্তেজনা

ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। দেশটির তায়েজ প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হাইফানের আল-মাফালিস ফ্রন্টে হুতি বিদ্রোহীদের একটি বড় ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করেছে সরকারি বাহিনী। তুওর আল-বাহা সামরিক অক্ষের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সেনাবাহিনীর চতুর্থ পদাতিক হাশদ ব্রিগেডের পাল্টা আক্রমণে হুতি মিলিশিয়ারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ওয়াদাহ আল-দুবাইশ জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-মাখা আকাশসীমায় হুতিদের একাধিক নজরদারি ড্রোন শনাক্ত করেছে সরকারি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এদিকে বুধবার বেশ কয়েকটি প্রদেশে হুতিদের অবস্থান ও জনসমাগম লক্ষ্য করে ড্রোন ও ভারী কামানের সাহায্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে সরকারি বাহিনী।
জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের তথ্য উপমন্ত্রী ফায়াদ আল-নুমান জানিয়েছেন, বুধবার বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিদের শক্তঘাঁটি লক্ষ্য করে তীব্র গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আল-দালেহ প্রদেশের আল-ফাকির বাজারের নিকটবর্তী এলাকায় সরকারি বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে বেশ কয়েকজন হুতি যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমির কণ্ঠে কঠোর হুশিয়ারি ঝরেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে হুতি মিলিশিয়াদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিপরীতে কঠোর ও সমন্বিত সামরিক জবাব দেওয়া হবে। আল-আলিমি আরও বলেন, তার সরকার অতীতে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির পক্ষে নয়। বরং তারা একটি টেকসই শান্তি চায়, যেখানে কেবলমাত্র রাষ্ট্রের হাতেই বৈধ অস্ত্র ও সার্বভৌমত্বের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তুলনামূলক উত্তেজনা কম থাকলেও চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে লড়াই আবার তীব্র রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগ করে জাতীয় পুনর্গঠনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
