AdvertisementAdvertisement

ব্রাজিলের সঙ্গে কূটনৈতিক অবনতি সত্ত্বেও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে না আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ধারাবাহিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্পর্ক অবনমন করে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও, বুয়েনস এইরেস পাল্টা কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রাসিলিয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতে সরকার নতুন কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।

সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিলেই লুলার বিরুদ্ধে ‘চোর’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘সাবেক দণ্ডিত ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বিষোদ্গার করেন। ২০১৮ সালে অপারেশন কার ওয়াশ দুর্নীতি তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়ে লুলা ৫৮০ দিন কারাগারে ছিলেন, তবে পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় সেই দণ্ড বাতিল হয় এবং বিচারককে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মিলেইয়ের এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত হুলিও বিতেলিকে বুয়েনস এইরেসে আর পাঠানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাসিলিয়া। এর পরিবর্তে দেশটির কূটনীতিকরা চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে সম্পর্ক পরিচালনা করবেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে ল্যাটিন আমেরিকার এই দুই শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের মধ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মিলেইয়ের শাসনামলে এখন পর্যন্ত দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে, ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে লুলা এই উত্তেজনাকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তিনি একে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লুলা বুধবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তার সরকার বাইরের কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করবে না এবং প্রত্যাশা করে যে অন্য দেশগুলো ব্রাজিলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। এদিকে, আর্জেন্টিনার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যেও কূটনৈতিক বিরোধ তুঙ্গে। ব্রাজিলে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে ব্রাসিলিয়ার আপত্তির কারণে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করেছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ব্রাজিল সরকারের অভিযোগ, মিলেই এবং বলসোনারো পরিবারের অনুসারীরা ব্রাজিলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। লুলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে এই কূটনৈতিক বিরোধ লুলার নির্বাচনী প্রচারণার একটি প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তুলে ধরছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%