লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দ্বন্দ্বে ট্রাম্পের রোষানলে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ব্যক্তি এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরো বর্তমানে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষয়ক্ষতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এই চরম মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পুলটি ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল, কিন্তু পিরো তা নাকচ করে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুন মাসে, যখন মেরামতের পরপরই ঐতিহাসিক এই পুলের নীল রঙের আস্তরণ উঠে আসতে শুরু করে এবং পানি সবুজ হয়ে যায়। ট্রাম্প এটিকে পরিকল্পিত ভাঙচুর হিসেবে অভিহিত করে অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেন। তবে আইনি পর্যালোচনার পর পিরো গত সপ্তাহে আদালতে জানান যে, এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয় বরং ঠিকাদারের ত্রুটিপূর্ণ কাজের ফল। আদালতে দেওয়া নথিতে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা দিবসের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের তাড়াহুড়োয় দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে তীব্র ভর্ৎসনা করে পিরোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি বিচারকের চাপের মুখে ভেঙে পড়েছেন। গত মে মাসে ট্রাম্প নিজেই পিরোকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সোমবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠক হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের সূত্র মতে, আপাতত তাকে বরখাস্ত করা থেকে বিরত থাকলেও তাদের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছে তা স্পষ্ট।
ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার সর্বোচ্চ সাজা হতে পারত ১০ বছরের কারাদণ্ড। তবে পিরোর অফিস স্বীকার করেছে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নথিপত্রে ভুল তথ্য ছিল এবং তাড়াহুড়ো করে করা কাজের কারণেই আস্তরণ খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে পুলের ক্ষতি করেছে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ১৩.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই পুল মেরামতের চুক্তিটি কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই ট্রাম্পের পরিচিত এক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রেসিডেন্ট একে তার শাসনামলের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে পিরোর এই আইনি অবস্থান ট্রাম্পের সেই দাবির ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
