AdvertisementAdvertisement

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলায় মৃত্যু ছাড়াল ১৭০০, চিকিৎসা গবেষণায় গতি সঞ্চারের চেষ্টা

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের ১৫ তারিখে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৮০২ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই বিপর্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনাই ইমুরি প্রদেশে কেন্দ্রীভূত হলেও, কিসানগানি শহরসহ মোট ছয়টি প্রদেশে ভাইরাসটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসটির বিরল বুনদিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক ওষুধ ও টিকার ট্রায়াল অভূতপূর্ব গতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জেনিভায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভাসি মুর্তি জানান, পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবার অনেক দ্রুত ট্রায়াল শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য আশাব্যঞ্জক হলেও, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়ায় শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং সাধারণ মানুষের অনাস্থার কারণে উদ্ধারকাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি তহবিল সংকটের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মংবওয়ালুসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠিক কবে নাগাদ প্রশমিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র উগান্ডায় সর্বশেষ রোগীর সুস্থ হওয়ার পর জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেশটি নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করেছে, যা কঙ্গোর জন্য একটি আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১৭ হাজারের অধিক মানুষের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%