AdvertisementAdvertisement

ঐতিহাসিক চুক্তির পরেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ও তীব্রতর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত ৩০ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দিলেও, কার্যত তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সমঝোতা ঘোষণার কয়েক দিনের ব্যবধানেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার ফলে সপ্তাহান্তের মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানকে দায়ী করা হচ্ছে। হামাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইসরায়েল যদি হামলা বন্ধ না করে এবং বাহিনী প্রত্যাহার না করে, তবে তারা এই চুক্তি কার্যকর করবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে এক চুলও নড়বে না। এই মৌলিক বিরোধের জেরে চলমান তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সংঘাত আগের চেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোববার গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ আরও অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দেইর আল-বালাহ এবং আল-কারারায় চালানো হামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে গর্ভস্থ ভ্রূণের দেহাবশেষ উদ্ধারের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসে গাজায় অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ১০০ জনে পৌঁছেছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, সাবরা এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে অন্তত ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ জনই শিশু। এখনও প্রায় ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকের দেহ বিস্ফোরণের তীব্রতায় কংক্রিটের সঙ্গে মিশে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া আল-আকসা হাসপাতালের ওষুধের গুদামে চালানো ইসরায়েলি হামলায় চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের নিহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত সাত মাসে ১ হাজার ৩৮০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংস্থাগুলো এই বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলেও, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উল্টো অভিযোগের তীর ছুঁড়েছে।

কেবল বসতি স্থাপনই নয়, বরং ভূমি দখলের প্রক্রিয়াও তীব্রতর হয়েছে। জেনিন ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযানের নামে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপনের কাজ চলছে। মাসাফের ইয়াট্টা এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় ধ্বংসের অনুমতি দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইসরায়েলি আদালত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করে তুলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%