নেত্রকোনায় পানিহীন খালে ৮ কোটি টাকায় নির্মিত ৪ ব্রিজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সোয়াইর ইউনিয়নের নলজুরি গ্রামে মাত্র ২০০ গজের ব্যবধানে চারটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ‘সাপোর্ট ফর রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করলেও বাস্তবে এগুলো জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজগুলোর নিচে কোনো নদী, খাল বা নালা নেই এবং বর্ষা মৌসুমেও নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের কোনো চিহ্ন থাকে না।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ২০ মিটার। এর মধ্যে তিনটি ব্রিজের নির্মাণব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং চতুর্থটিসহ মোট ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের দুই বছর অতিবাহিত হলেও কাজের সময় তৈরি করা ডাইভারশন বা বাইপাস রোডের মাটি এখনো সরানো হয়নি। ব্রিজের দুই পাশেই ঘনবসতি থাকায় এবং পানি চলাচলের পথ না থাকায় কোটি কোটি টাকার এই স্থাপনাগুলো বর্তমানে কেবল শো-পিস হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইকরামুল হক জানান, প্রকল্পটির ডিজাইন ও জরিপ কাজ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি ২০২৫ সালে কর্মস্থলে যোগদানের পর বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল মিয়ার দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকে থাকা পুরনো খালের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে এটি খনন করা প্রয়োজন, তবে বর্তমানে এই ব্রিজগুলোর উপযোগিতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রাকৃতিক সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা এই ব্রিজগুলো সরকারি অর্থের চরম অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, কোনো নদী বা হাওরের সঙ্গে সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন এভাবে চারটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলো, তা স্থানীয়দের বোধগম্য নয়। বিশেষ করে বসতবাড়ির ওপর দিয়ে তৈরি এই অবকাঠামোগুলো চলাচলের জন্য কোনো সুবিধাই বয়ে আনছে না। সরকারি অর্থের এমন অপরিকল্পিত ব্যবহার ও অপচয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
