AdvertisementAdvertisement

ইথিওপিয়ায় সংঘাত ফের গৃহযুদ্ধের আতঙ্ক বাড়ছে শান্তিচুক্তি ভঙ্গের শঙ্কা

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা শেরেরিনায় ফেডারেল সেনাবাহিনী ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভারী কামান ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই সামরিক অভিযান তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির শর্তাবলীকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই সংঘাত রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

সংঘর্ষের ফলে শত শত টাইগ্রেয়ান, যাদের মধ্যে অনেক আহত যোদ্ধা রয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে সুদানের সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছেন। সুদানের আদ-দামাঞ্জিন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ওসামা সাঈদ আহমাদ জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় থাকা শরণার্থী শিবিরগুলোতে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা গেছে। যদিও হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে এই উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

টিপিএলএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়েছে এবং এটি একটি বড় আকারের পদাতিক অভিযান ছিল। বিদ্রোহীরা অভিযোগ করে বলেছে, সরকারি বাহিনী তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে রবিবারের নাগাদ লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় টিপিএলএফের এক সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর আগে থেকেই উত্তরের সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের বিশাল সামরিক উপস্থিতি ছিল এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছিল। উল্লেখ্য, এর আগের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল বলে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রাক্কলনে উঠে আসে। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পার হওয়ার পর নতুন এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে আবারও অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের পদধ্বনি শোনাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%