সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে জিম্বাবুয়েতে উত্তেজনা রাজধানী হারারেতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জিম্বাবুয়ের সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে আহুত দেশব্যাপী ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজধানী হারারেতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশের সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতায় নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলগুলো এই ধর্মঘটের ডাক দিলেও, হারারেতে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর স্বাভাবিক ব্যস্ততম সকালের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। কাজের দিনে রাস্তাঘাটে যান চলাচল ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর প্রধান সড়কগুলো অনেকটা জনশূন্য দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পার্কগুলোতে জলকামানসহ অবস্থান নিয়েছে। পূর্বঘোষিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো ধরনের জনসমাবেশ হতে দেয়নি পুলিশ, যার ফলে শহরজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
জুলাই মাসে পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সীমা ২০২৮ সাল থেকে পিছিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সদস্যদের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এমারসন মানগাগওয়া ক্ষমতার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন।
বিগত ২০১৭ সালে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মানগাগওয়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই সংশোধনীগুলোর মূল লক্ষ্য। ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ দলের তথ্য পরিচালক ফারাই মারাপিরা জানান, ঘনঘন নির্বাচনের উত্তাপ ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচনী চক্রের পরিবর্তন আনা জরুরি ছিল।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকার কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এই আইন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে দুর্বল করবে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিবর্তে পার্লামেন্টের মাধ্যমে নির্বাচনের নতুন পদ্ধতিটি অগণতান্ত্রিক। এরই মধ্যে সাংবিধানিক আদালতে এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীরা।
দিন যতই গড়িয়েছে, হারারের জনজীবনে কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করে। কিছু দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে এবং ট্যাক্সি চলাচলও স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে পুলিশের এই ব্যাপক উপস্থিতি ও কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, সংবিধান সংশোধনের ইস্যুটি নিয়ে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরিস্থিতি আপাত শান্ত মনে হলেও সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ রয়েই গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
