AdvertisementAdvertisement

নিরাপত্তাহীনতায় নাইজেরিয়ার বাস্তুচ্যুত নারী: জীবিকা ও ভিটেমাটির দোলাচলে সাফিয়া মুসা

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাটসিনা রাজ্যের জিবিয়া শহরে এক নতুন জীবনের সন্ধানে লড়াই করছেন সাফিয়া মুসা। স্বামী ও দুই সন্তানকে হারানো সাফিয়ার জীবনটা এখন দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে। একদিকে নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে দীর্ঘ সংগ্রামের পর গড়ে তোলা ক্ষুদ্র ব্যবসার অনিশ্চয়তা তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতায় সর্বস্ব হারানো সাফিয়ার মতো হাজারো নারী এখন নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

২০২৩ সালে ক্যানকারা শহরে সশস্ত্র দস্যুদের হামলায় সাফিয়ার স্বামীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হন। সেই বিভীষিকাময় রাতে চার ও ছয় বছর বয়সী দুই সন্তানকে হারিয়ে সাফিয়ার পৃথিবী ওলটপালট হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রাণ বাঁচাতে বাৎসারি থেকে জিবিয়ার বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির জলবায়ু নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় হাতব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ পান সাফিয়া। এই প্রশিক্ষণই তাকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বাঁচার নতুন অবলম্বন জুগিয়ে দেয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিজের সেলাই মেশিন দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে এখন সাফিয়া সন্তানদের দুমুঠো অন্ন জোগাচ্ছেন। একসময় সন্তানদের খাবারের জন্য অন্যের দুয়ারে হাত পাততে হতো, এখন নিজের উপার্জনেই চলছে তাদের সংসার। সাফিয়ার মতোই করীমা সুলে নামের আরেক নারী জানিয়েছেন, ব্যবসা ভালো হলে মাসে প্রায় ৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়, যা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালানো যায়। জিবিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নাইজারের মারাদি অঞ্চলের মতো আন্তঃসীমান্ত বাজারেও পণ্য বিক্রির সুযোগ রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে এই অর্জন সত্ত্বেও নিরাপত্তাঝুঁকি এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। হিউম্যান সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ আবদুসসামাদ আহমাদ ইউসুফ সতর্ক করে বলেছেন, এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের ঘটনা বাড়ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় হুমকি। ক্যাটসিনা রাজ্য সরকার স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য ‘কমিউনিটি ওয়াচ কোর’ গঠন করলেও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সাফিয়ার মতো ভুক্তভোগীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, নিজ এলাকায় ফিরে গেলে তারা কি ব্যবসার এই পরিবেশটুকু ফিরে পাবেন কি না।

সাফিয়া এখন স্বপ্ন দেখেন নিজ বাড়িতে ফেরার, যেখানে তার সন্তানেরা স্বজনদের সান্নিধ্য পাবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। তিনি দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ ভিটায় ফিরলে যদি এই ছোট ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখা না যায়, তবে তাদের টিকে থাকাটাই পুনরায় হুমকির মুখে পড়বে। নিরাপত্তা ও জীবিকার এই দ্বন্দ্বে সাফিয়ার মতো নারীরা আজ টিকে থাকার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%