যুক্তরাজ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের স্পাইওয়্যার ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ওপর বিদেশি রাষ্ট্রের নজরদারি বা স্পাইওয়্যার ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ঘোষিত এই রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশের মাটি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত যন্ত্রে স্পাইওয়্যার অনুপ্রবেশ করালে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আদালতে মামলা করা সম্ভব। ৩-২ ব্যবধানে এই রায়ের মাধ্যমে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তি বা ‘স্টেট ইমিউনিটি’ দাবির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
বাহরাইনের রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক ও সাংবাদিক সাইদ শেহাবি এবং বাহরাইনি শরণার্থী মুসা মোহাম্মদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানাল। বাদীদ্বয়ের অভিযোগ, ২০১১ সালে বাহরাইন সরকার তাঁদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ‘ফিনস্পাই’ নামক শক্তিশালী নজরদারি সফটওয়্যার অনুপ্রবেশ করিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাঁদের প্রতিটি কি-স্ট্রোক রেকর্ড, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং কার্যক্রমের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হতো।
এই নজরদারির ফলে মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে ২০২০ সালে লন্ডনের হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। তবে বাহরাইন সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই তারা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আইনি দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকারী।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, যেহেতু ভুক্তভোগী এবং তাঁদের ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলো ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যের ভেতরেই ছিল, তাই এই নজরদারির ঘটনাটি ‘যুক্তরাজ্যে সংঘটিত কাজ’ হিসেবেই গণ্য হবে। এর আগে ২০২৩ সালে লন্ডনের হাইকোর্ট এবং পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ বাহরাইনের দায়মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে এখন মামলাটি বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাহরাইন সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বী ও সাংবাদিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগ তুলে আসছে। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ব্রিটিশ আদালতের সুরক্ষায় বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হলো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা