সরকারের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করল অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি

আগামী এক মাসের মধ্যে যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের সরকারি আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী ডাকা অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার ২৮ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতের পর রাজধানীর ন্যাম ভবনের অভ্যর্থনা কক্ষে সরকারের প্রতিনিধি এবং মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সের বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন, সরকারি হাসপাতালে পার্কিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সকে টোলমুক্ত রাখাসহ একগুচ্ছ দাবির বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
জনদুর্ভোগ লাঘব ও চিকিৎসাসেবা সচল রাখার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি দেশের মানুষের সংকটের কথা বিবেচনা করে এবং সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে বুধবার থেকে সারা দেশে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন।
সাড়ে ৭ হাজার অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো রোগী বা মৃতদেহের স্বজনরা যেন কোনোভাবেই ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে অবিলম্বে সব গাড়ি রাস্তায় নামাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স খাতের ন্যায্য দাবিগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পুনরায় আশ্বস্ত করা হয়েছে।